এই ৭ দিনের খাবারের পরিকল্পনা দৈনিক প্রায় ১,৫০০ ক্যালোরি ধরে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও এতে ১,৮০০ ও ২,০০০ ক্যালোরির জন্য আলাদা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের পরিকল্পনায় অন্তত ৭৯ গ্রাম প্রোটিন এবং ২৮ গ্রাম ফাইবার রয়েছে, যা রক্তে শর্করা স্থিতিশীল রাখতে এবং ওজন কমাতে সহায়ক।
এই ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট তাদের জন্য উপযুক্ত যারা স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে এবং ব্লাড সুগার ব্যালান্স রাখতে চান।
এই পরিকল্পনায় ফাইবার-সমৃদ্ধ শস্য, সবজি ও ডালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা স্বাস্থ্যকর ওজন হ্রাস ও ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে সাহায্য করে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১০% মানুষের টাইপ-২ ডায়াবেটিস রয়েছে – যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট অনুসরণ করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
এই ৭ দিনের মেন্যু বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে তাদের জন্য যাদের প্রিডায়াবেটিস, টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা পিসিওএস আছে। তবে যারা এখনো এসব সমস্যায় ভোগেন না কিন্তু রক্তে শর্করা বাড়ার ঝুঁকি কমাতে চান, তাদের জন্যও এটি উপযোগী। এছাড়াও এই ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট আপনার হরমোন ব্যালান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
এক নজরে খাবারের পরিকল্পনা
এই অংশে ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্টের সারাংশ দেওয়া হলো, যাতে আপনি সহজেই প্রতিদিনের খাবার পরিকল্পনা দেখতে পারেন।
দিনভিত্তিক বিস্তারিত পরিকল্পনা
৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট অনুসারে প্রতিদিনের খাবারের বিশদ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।
দিন ১
সকালের নাস্তা (৩৬৫ ক্যালোরি, ২৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট)
- ১ কাপ লো-ফ্যাট গ্রিক দই
- ১ সার্ভিং চিয়া সিড জ্যাম (চিনি ছাড়া)
- ৩ টেবিলচামচ আখরোট কুচি
- ½ কাপ ব্লুবেরি
সকাল স্ন্যাক (২০৮ ক্যালোরি, ১৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট)
- ¼ কাপ পিস্তাচিও
- ½ কাপ রাস্পবেরি
দুপুরের খাবার (৩১২ ক্যালোরি, ৩৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট)
- ১ সার্ভিং টমেটো-বান টুনা মেল্ট
- ১ মাঝারি আপেল
বিকেল স্ন্যাক (২০৯ ক্যালোরি, ২২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট)
- ১ সার্ভিং ডাবল-তাহিনি হিউমাস
- ১ কাপ গাজরের স্লাইস
রাতের খাবার (৪২৭ ক্যালোরি, ৩২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট)
- লেমন-গার্লিক শিট-প্যান সালমন + আলু + সবুজ শিম
মোট: ১,৫২১ ক্যালোরি, ৭৯ গ্রাম ফ্যাট, ৮৯ গ্রাম প্রোটিন, ১২৬ গ্রাম কার্ব, ২৯ গ্রাম ফাইবার
১,৮০০ ক্যালোরির জন্য: বিকেলের স্ন্যাকের সাথে ১টি কমলা যোগ করুন + রাতে কটেজ চিজ স্ন্যাক জার যোগ করুন।
২,০০০ ক্যালোরির জন্য: একইসাথে দুপুরের আপেলের সাথে ২ টেবিলচামচ পিনাট বাটার যোগ করুন।
এই দিনটি ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্টের প্রথম ধাপ, তাই নিয়মিত পানি পান করা জরুরি।
দিন ২
সকালের নাস্তা (৩৩১ ক্যালোরি)
- মিনি ক্রাস্টলেস কুইচ (কেল, মাশরুম, ফেটা)
- ১টি কমলা
সকাল স্ন্যাক (১৫১ ক্যালোরি)
- ½ কাপ গ্রিক দই
- চিয়া সিড জ্যাম
- ১ কাপ রাস্পবেরি
দুপুরের খাবার (৩৫৫ ক্যালোরি)
- চিকেন পাপরিকাশ স্যুপ
বিকেল স্ন্যাক (১৭৫ ক্যালোরি)
- হিউমাস + শসা
রাতের খাবার (৪৯৪ ক্যালোরি)
- স্টাফড পেপার স্কিলেট
মোট: ১,৫০৬ ক্যালোরি, ৯৮ গ্রাম প্রোটিন
১,৮০০ ক্যালোরির জন্য: বিকেলের স্ন্যাকের সাথে আপেল যোগ করুন + ডিনারে রোস্টেড ফুলকপি সালাদ নিন।
২,০০০ ক্যালোরির জন্য: নাস্তার সাথে ১ কাপ কেফির + সকাল স্ন্যাকের সাথে ২ টেবিলচামচ আখরোট।
দিন ২ হলো ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে বেশি সবজি ও প্রোটিন থাকবে।
দিন ৩
সকালের নাস্তা: দিন ১ এর মতোই
সকাল স্ন্যাক: ২টি সেলারি + ১ টেবিলচামচ পিনাট বাটার
দুপুরের খাবার: চিকেন পাপরিকাশ স্যুপ
বিকেল স্ন্যাক: হিউমাস + শসা
রাতের খাবার: রোস্টেড স্কোয়াশ ও ডাল সালাদ
মোট: ১,৪৭৯ ক্যালোরি, ৭৯ গ্রাম প্রোটিন
দিন ৩ এ ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্টে ডাল ও ফাইবার বেশি দেওয়া হয়েছে যাতে রক্তে শর্করা স্থিতিশীল থাকে।
দিন ৪
সকালের নাস্তা: কুইচ + কমলা
সকাল স্ন্যাক: গ্রিক দই + চিয়া সিড জ্যাম + রাস্পবেরি + আখরোট
দুপুরের খাবার: চিকেন পাপরিকাশ স্যুপ
বিকেল স্ন্যাক: হিউমাস + গাজর
রাতের খাবার: ছোলা, বিট ও ফেটা সালাদ + ৩ আউন্স চিকেন
মোট: ১,৪৮৪ ক্যালোরি, ৩২ গ্রাম ফাইবার
এই দিনটি ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্টে ডিটক্স ডে হিসেবেও ধরা যায় কারণ বিট লিভার ক্লিন করতে সাহায্য করে।
দিন ৫
সকালের নাস্তা: কুইচ + কমলা
সকাল স্ন্যাক: দই + চিয়া সিড জ্যাম + রাস্পবেরি
দুপুরের খাবার: আগের দিনের ছোলা-বিট সালাদ + চিকেন
বিকেল স্ন্যাক: সেলারি + পিনাট বাটার
রাতের খাবার: গার্লিক চিংড়ি + ফুলকপি রাইস
মোট: ১,৪৯৩ ক্যালোরি, ১০৬ গ্রাম প্রোটিন
দিন ৫ হলো ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্টে প্রোটিন বুস্ট করার সেরা দিন।
দিন ৬
সকালের নাস্তা: কুইচ + কমলা
সকাল স্ন্যাক: দই + রাস্পবেরি
দুপুরের খাবার: ছোলা-বিট সালাদ + চিকেন
বিকেল স্ন্যাক: আপেল + পিনাট বাটার
রাতের খাবার: চিকেন পাওয়ার সালাদ
মোট: ১,৫১৫ ক্যালোরি, ১১৬ গ্রাম প্রোটিন
দিন ৬ এ ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্টে জটিল কার্বোহাইড্রেট বাড়ানো হয়েছে যাতে এনার্জি লেভেল ভালো থাকে।
দিন ৭
সকালের নাস্তা: দই + চিয়া সিড জ্যাম + আখরোট + ব্লুবেরি
সকাল স্ন্যাক: আপেল
দুপুরের খাবার: ছোলা-বিট সালাদ + চিকেন
বিকেল স্ন্যাক: সেলারি + পিনাট বাটার
রাতের খাবার: স্টেক স্কিউয়ার + রোস্টেড ব্রাসেল স্প্রাউট
মোট: ১,৪৯৮ ক্যালোরি, ৯৯ গ্রাম প্রোটিন
দিন ৭ এ ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট সম্পূর্ণ হবে এবং আপনি সপ্তাহের ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন।
প্রস্তুতির টিপস
- সপ্তাহের শুরুতে চিকেন পাপরিকাশ স্যুপ রান্না করে রাখুন, যাতে ২-৪ দিনের জন্য লাঞ্চ প্রস্তুত থাকে।
- একসাথে মিনি কুইচ বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন, প্রতিদিন গরম করে খাওয়া যাবে।
৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট ঠিকভাবে অনুসরণ করতে হলে মিল প্রিপিং জরুরি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
আমি যদি কোনো খাবার পছন্দ না করি, বদলাতে পারব?
হ্যাঁ, ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট অনুযায়ী সমমানের ক্যালোরির খাবার বেছে নিতে পারেন।
আমি কি প্রতিদিন একই ব্রেকফাস্ট খেতে পারি?
অবশ্যই, এতে কোনো সমস্যা নেই যদি পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।
উচ্চ রক্তে শর্করার লক্ষণ কী?
অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা – এগুলো প্রধান লক্ষণ।
আমি কি অন্য ডায়েট চার্ট বা মিল প্ল্যান দেখতে পারি?
হ্যাঁ! আমাদের ওয়েবসাইটে আরও অনেক ওজন কমানোর মিল প্ল্যান, কেটো ডায়েট চার্ট, ভেজিটেরিয়ান মিল প্ল্যান এবং ডায়াবেটিস-ফ্রেন্ডলি ডায়েট চার্ট রয়েছে।
কীভাবে এই ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট স্বাস্থ্যকর রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে
স্বাস্থ্যকর রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে আমরা মাঝারি পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট বেছে নিয়েছি, যা দিনের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট রয়েছে, যা আপনার দৈনিক মোট ক্যালরির প্রায় ৩০%। এটি সাধারণ পরামর্শের (যেখানে ৫০% ক্যালরি কার্বোহাইড্রেট থেকে নেওয়ার কথা বলা হয়) তুলনায় অনেকটাই কম।
মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ কমিয়ে এবং সম্পূর্ণ শস্য, ফল এবং ডাল থেকে ফাইবার-সমৃদ্ধ কার্বোহাইড্রেট বেছে নেওয়া রক্তে শর্করার মাত্রা আরও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত ২৮ গ্রাম ফাইবার গ্রহণের লক্ষ্য রাখুন।
অধিক প্রোটিন খাওয়া—বিশেষত যখন তা কার্বোহাইড্রেটের উৎসের সাথে খাওয়া হয়—রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া কমায়, কারণ প্রোটিন ধীরে হজম হয়। প্রতিটি খাবারে এবং বেশিরভাগ স্ন্যাকসে একটি প্রোটিনের উৎস অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুন যাতে স্বাস্থ্যকর রক্তে শর্করা বজায় থাকে।
এই পরিকল্পনায় আপনি মাছ, মুরগি, সামুদ্রিক খাবার, মাংস, ডিম, দুগ্ধজাত খাদ্য এবং ডাল সহ বিভিন্ন প্রোটিনের উৎস পাবেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯৮ গ্রাম প্রোটিন সরবরাহ করা হয়।
৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট অনুসরণ করলে আপনার কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা রক্তে শর্করা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই ডায়াবেটিস প্রিভেনশন বা ওজন কমানোর জন্য ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট ব্যবহার করেন, কারণ এতে সুষম প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে।